নারায়ণগঞ্জে শিক্ষকের অপসারন চেয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

0
3

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জে মাস্টার্স পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করায় ৪০ জন পরীক্ষার্থীর খাতা ও প্রশ্নপত্র আটকে রাখার প্রতিবাদে এক সহকারী অধ্যাপকের অপসারণ ও পুন:পরীক্ষা গ্রহণের দাবীতে বিক্ষোভ করেছে দুইটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি তোলারাম কলেজের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের দাবী সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রায় দুইঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সর্ব মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভূক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার শহরের মাসদাইর এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে দুপুর একটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত মাষ্টার্সের শেষ বর্ষের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর পর থেকে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন হলে প্রবেশ করে মোবাইল ফোন সাথে রাখার অভিযোগে চল্লিশজন পরীক্ষার্থীর খাতা ও প্রশ্নপত্র প্রায় চার ঘন্টা আটকে রাখেন। যার কারনে এই চল্লিশ জন শিক্ষার্থী তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা থেকে বঞ্চিত হন। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা কয়েকবার তার পা ধরে ক্ষমা চেয়ে ওই শিক্ষকের কাছে খাতা ফেরত দেবার অনুরোধ জানালে তাদেরকে নানাভাবে কটুক্তিসহ দুই ছাত্র-ছাত্রীকে থাপ্পড় ও লাথি দেবার অভিযোগও রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
পরীক্ষার্থীদের আারো অভিযোগ, ঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানোর কথা বললে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তাদেরকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে নিয়ে কটািক্ত করেন। রফিকুল ইসলাম এ সময় বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা এম.পি শামীম ওসমানের সন্তান হলেও আমি কাউকে কেয়ার করি না। আই ডোন্ট কেয়ার এনিবডি”। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত আটাটা পর্যন্ত ওই স্কুল কেন্দ্রে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে ধাওয়া দিয়ে পরীক্ষার্থীদের ছ্রতভঙ্গ করে বাইরে বের করে দেয়। বুধবার দুপুর থেকে তারা পুনরায় নিজ নিজ কলেজ অভ্যন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবী, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের আগে পরীক্ষার্থীদের চেক করার ব্যবস্থা ছিল না। ওই ব্যবস্থা থাকলে তারা মোবাইল ফোন সাথে নিয়ে প্রবেশ করতেন না। এ অবস্থায় তারা এক বছর পিছিয়ে গেল এবং তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার্থী দুই ছাত্র-ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার অপরাধে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে দায়ী শিক্ষকের অপসারণ সহ পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবী জানান।
এ ব্যাপারে সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রাণী সিংহ জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে চেক করার ব্যবস্থা রাখার প্রয়োজন ছিল। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করলে তাকে বহি:স্কার করার বিধান রয়েছে। তবে চার ঘন্টা খাতা ও প্রশ্নপত্র আটকে রাখার কোন বিধান নেই। তিনি জানান, পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবীর ব্যাপারে কলেজের পক্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। তবে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টি শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ই সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। কারন সারা দেশে একই সাথে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। শুধুমাত্র একটি কেন্দ্রের জন্য াালাদা পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মানবতা ও বিবেচনার ব্যাপার।
তবে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেদুরা বিনতে হাবীব জানান, শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। তাদের প্রতি আমাদের মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। আমাদের কলেজের সহকারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম খুবই অমানবিক আচরণ করেছেন, যার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। লিখিতভাবে নোটিশ দিয়ে কলেজের সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এবং আগামী পাঁচদিনের মধ্যে তাকে লিখিতভাবে জবাবদিহি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এই সময় পর্যন্ত তিনি কলেজের কোন ধরনের পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
ভূক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানান, এ ব্যাপারে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তারা নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবেন। স্বারকলিপি প্রদানের পর দায়ী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here