1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

আমরা কি টাইম বোমার ওপর বসে আছি?

মতিউর রহমান চৌধুরী:
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০
  • ৯০

বিচিত্র এক স্তব্ধতা পৃথিবী জুড়ে। এক অদৃশ্য ভাইরাসের দাপটে বিশ্ব ব্যবস্থা একদম ভেঙে পড়েছে। পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারকদের সব জারিজুরি ফাঁস হয়ে গেছে। তারা এখন বলছেন, মানুষ মারার সব কৌশলের কাছেই আমরা পরাজিত। দেশে দেশে বিজ্ঞানীরা কত গবেষণা করছেন। কিন্তু কোনো কুলকিনারা হচ্ছে না। আমাদের বিজ্ঞানীদের কত মজা। তাদের গবেষণা করতে হয় না।

গবেষণায় যারা উদ্ধুদ্ধ করবেন তারা নিজেরাই আছেন এক অস্থিরতার মধ্যে। করোনা মোকাবিলায় শুরু থেকেই বাংলাদেশে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। অথচ বাংলাদেশে করোনা এসেছে অনেক পরে। সরকারি ভাষ্যমতে ৮ই মার্চ। চীনের উহানে নভেম্বরেই করোনা কামড় দিয়েছিল। এরপর দুনিয়ায় ছড়িয়েছে। আমরা প্রথম থেকেই বলেছি ভয়ের কিছু নেই। আমরা প্রস্তুত। করোনাকে সামাল দিতে আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। আমরা যখন বুঝলাম অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খাচ্ছে, ভেঙে পড়ছে তাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, তখন আমাদের হুঁশ হলো। একদিন ঘুম থেকে জেগে দেখি আমরা টাইম বোমার ওপর বসে আছি। এরপর থেকে শুরু হলো নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। লকডাউন বা সাধারণ ছুটি নিয়ে আমরা নানা খেলা করলাম। কিন্তু একবারও তলিয়ে দেখলাম না ১৮৫৭ সালের মহামারী আইন কী বলছে। নরেন্দ্র মোদি আর বরিস জনসন এ আইন বলেই লকডাউন ঘোষণা করলেন। আমরা গেলাম সাধারণ ছুটিতে। মাঝখানে স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ সারা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দিলেন। দুর্যোগ আইনে ঝুঁকিপূর্ণের কোনো সুযোগ নেই। বলতে পারতেন দুর্গত বা সংক্রমিত এলাকা। আক্রান্তের সংখ্যা কম হওয়ায় আমরা বলতে থাকলাম, পৃথিবীর অনেক দেশ থেকেই আমরা ভালো আছি। কে বলবে, টেস্টই যেখানে নেই সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা কম হবে না তো বেশি হবে নাকি। স্থানীয়ভাবে টেস্ট হচ্ছে না এখনো বেশিরভাগ এলাকায়। অনেকে টেস্টে যেতেও চায় না। পরিবার বাঁচাতে সামাজিক বয়কটের ভয়ে বাড়িতে বসেই সর্দি-জ্বরের চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিণতিতে অবশ্য বিপদটাই বাড়ছে। তাছাড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন তলানিতে। চিকিৎসক যেখানে ভীত সেখানে সাধারণ রোগী? কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এমন সংখ্যা কম। প্রতিদিনই আমরা সরকারের ভেতরে-বাইরে অস্থিরতা দেখছি। সকাল-বিকাল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছি। টেস্ট না হওয়ার কারণে বুঝতেই পারছি না আমরা রেড জোনে না হলুদ জোনে আছি। শুরুটা যদি আমরা পর্যালোচনা করি তাহলে অস্থিরতার কিছু আলামত দেখতে পাবো।
১. প্রবাসীদের দেশে আসতে দেয়ার ক্ষেত্রে সকাল-বিকাল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন।
২. কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা না করেই দেশে আসার অনুমতি।
৩. আশকোনা হজ ক্যাম্পে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদের মুখে ইতালি ফেরতদের ছেড়ে দেয়া।
৪. আক্রান্ত দেশ থেকে আসাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে না রাখা।
৫. একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরীক্ষা শুরু।
৬. সংক্রমণ ধরা পড়ার পরও পরীক্ষা না বাড়ানো।
৮. সময়মতো হাসপাতাল প্রস্তুত না করা।
৯. ডাক্তারদের সময়মতো মাস্ক ও পিপিই না দেয়া। যাদের দেয়া হয় তা ছিল নিম্নমানের।
১০. কোভিড হাসপাতালে অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটরের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করা।
১১. বেশি আক্রান্ত জেলায় ল্যাব স্থাপন না করা।
১২. কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরখাস্ত করা।
১৩. ছুটি ঘোষণার পর গার্মেন্ট কর্মীদের দফায় দফায় ডেকে আনা।
১৪. আক্রান্ত জেলায় অবাধ চলাচলের সুযোগ।
১৫. প্রথমে গার্মেন্টস এর জন্য প্রণোদনা ঘোষণা।
১৬. চিকিৎসা না দিলে ব্যবস্থা নিয়ে প্রজ্ঞাপন, পরে প্রত্যাহার।
১৭. সরকারি অফিস খোলার ব্যাপারে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দেয়া হয়নি।
১৮. ত্রাণ ‍বিতরণে সমন্বয় নেই। জনপ্রতিনিধিরা হতাশ করেছেন।
এসব সিদ্ধান্ত নেয়া এবং পরিবর্তনের ফলে মানুষের মধ্যে একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। বরাবরই অর্থনীতি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এটা ফেলে রাখা যায় না। ভাইরাস দমন করতে হবে, অর্থনীতিও সচল রাখতে হবে। প্যাকেজ ঘোষণাই বড় কথা নয়, জনগণকে একটি দিশা দিতে হবে। দেখাতে হবে নতুন কোনো পথ। শুধু সমালোচনা নয়, জাতীয় স্বার্থেই দেখতে হবে বিষয়টি। এটা নতুন এক সমস্যা। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকার কথা নয়। সন্দেহ নেই, বাংলাদেশ যে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে অতীতে এমন সময় কখনও আসেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে একবার সীমিত আকারে সুপ্রিম কোর্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে তা স্থগিত করা হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকই বলছেন, বিচারালয়ও জরুরি সেবার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হলে মানুষ যাবে কোথায়? সীমিত বা অনলাইনে হলেও আদালত খোলা রাখা প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে।
শেষ কথা: মানুষ জ্বলছে ক্ষুধার জ্বালায়। সে কি লকডাউন মানবে? সে বলছেই করোনায় জান যাক, আগে কিছু খেয়ে নেই। মনে রাখা দরকার, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের আভাস দিয়েছে। খাদ্য সংগ্রহের উদ্যোগ আগেভাগেই নিতে হবে। খাদ্য সরবরাহকারী দেশ ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ভারত নিজেরাই আক্রান্ত।

ফেসবুকে আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart