1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

করোনায় প্রমানিত, শিক্ষায় বাণিজ্যিকরণ নয়, চাই  যথার্থ রাস্ট্রীয়করণ 

মুহাম্মদ মাসুম খান (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৬ মে, ২০২০
  • ৩০৩
বৈশ্বয়িক অকল্পনীয় করোনার থাবায় সব কিছুর মতো বাংলাদেশের  শিক্ষা ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। লেখাপড়া তো দুরের কথা শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন ভাতাদির  নূন্যতম ব্যবস্থা করে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই এখন অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে  ৯৭% শিক্ষার্থীদের  পড়ানো  অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান আজ চরম হুমকির মুখে। মাত্র দেড় মাস বন্ধের কারণেই কেন প্রতিষ্ঠান গুলির একাডেমিক শিক্ষা দান, শিক্ষক-কর্মচারি ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিপর্যয় নেমে এসেছে তা গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত। প্রকৃত অর্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রমজান মাসে এমনিতেই বন্ধ থাকে। সে হিসেব করতে গেলে করোনার কারণে প্রায় ১ মাস হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। অথচ এক মাসেই চারদিকে সব হাহাকার লেগে গিয়েছে। ক্লাস নেয়া যাচ্ছে না, শিক্ষার্থীর সাথে কোন রকম যোগাযোগ রক্ষা করা যাচ্ছে না, শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন দেয়া যাচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা ছিল প্রতিটি স্কুলের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থাকা, প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট  থাকলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখা কঠিন কিছু নয়। প্রায় সব শিক্ষককে আই,সি,টি প্রশিক্ষন দেয়া আছে, প্রত্যেকের ল্যাপটপ, স্মার্ট মোবাইল, পেন ড্রাইভ থাকা বাধ্যতামুলক। অনেক প্রতিষ্ঠানে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ল্যাব দেয়া হয়েছে। এতো কিছুর পরেও  অন লাইনে ক্লাস নিতে পারছেনা প্রতিষ্ঠানগুলি।
এবার আসা যাক আর্থিক দুরাবস্থার কথা। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিতে দাতা থাকেন, শিক্ষানুরাগী থাকেন, সমাজের বিত্তশালী এলিট ব্যক্তিগন থাকেন, মোটা অংকের টাকা সেশন ফি, মাসিক টিউশন ফি নেয়া হয়। তারপরেও কেন মাত্র  দুই মাস শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন দেয়ার মতো টাকা প্রতিষ্ঠান ফান্ডে থাকবে না?   আজকে  বাংলাদেশে যদি নির্দিষ্ট ক্যাচমেন্ট এরিয়া  এবং   সকল নীতিমালা যথাযথ মেনে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠত তাহলে কোন প্রতিষ্ঠানই অর্থের অভাবে শিক্ষকদের  মাত্র দুই মাস বেতন দেয়ার জন্য সরকারি প্রণোদনা দাবী করতে হতো না বা এই বিপর্যয়ে পড়তো না। বরং এই বিপদে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে পারত। আজকে খুবই দুঃখজনক বিষয় যে অধিকাংশ  বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন দিতে পারছেনা  ফান্ড না থাকার কারণে। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলি এতো দিনতো  ভালই চলেছে। অনেকে তো অনেক টাকা লাভ করেছেন স্কুল চালিয়ে। শিক্ষক- কর্মচারিদের কত টাকাই বা বেতন দিতেন তারা ?।ব্যক্তি মালিকানাধীন কিন্ডার গার্ডেন জাতীয় প্রতিষ্ঠানে   শিক্ষকদের  যে টাকা বেতন দেয়া হয় সেটা  অনেক ক্ষেত্রে একটা গার্মেন্টস শ্রমিকের মজুরির অর্ধেক হবে। অথচ সেসব প্রতিষ্ঠানে মাসিক বেতন, সেশন ফিসহ বিভিন্ন ভাতাদি তো কম নেয়া হয় না। সে টাকা এখন গেল কোথায়? অথচ  করোনায় দুই মাস শিক্ষার্থীদের বেতন আদায় না হওয়ায় আজকে শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছেনা। মূলত  লাগামহীন ভাবে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে গড়ে উঠা এসব প্রতিষ্ঠানের জন্যই  প্রতিষ্ঠিত এম,পি,ও ভুক্ত এবং সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থী কমে গেছে, তাদের আয় কমে গেছে। ফলশ্রুতিতে এখন এম,পি,ও ভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানেও আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।আমি মনে করি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অন্তত মাধ্যমিক লেবেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলা ঠিক নয়।শিক্ষা  নিয়ে ব্যবসা করা চলে না। আগের দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তারাই দিত যারা সমাজের মানুষকে শিক্ষার আলোতে আলোকিত করতে চাইতেন।সেখান থেকে কত টাকা লাভ হবে, সেটা দিয়ে তারা চলতে পারবে কি না সেই চিন্তা করতো না। আর এখন স্কুল দিলে কত টাকা লাভ হবে সেই চিন্তাভাবনা সবার আগে করা হয়। আর্থিক বিষয়টাই তাদের কাছে মূখ্য বিষয় হিসেবে থাকে।আমি মনে করি  সারা দেশে এখন যে পরিমান সরকারি এবং বেসরকারি এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলিই এদেশের শিক্ষাদানের জন্য যথেষ্ট। প্রয়োজনে সরকারি প্রতিষ্ঠান আরো  বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু বানিজ্যিকভাবে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সংস্কৃতি কারো জন্যই সুখকর হচ্ছে না। যারা ব্যক্তিমালিকানাধীন স্কুল চালান তারা যেমন ঝুকিতে থাকেন, প্রবল চাপে থাকেন। অন্যদিকে অভিভাবকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়।পাশাপাশি সরকারি  স্বিকৃত  অনুদানকৃত প্রতিষ্ঠানগুলি ও ঝুকিতে পড়ে। শিক্ষার মান,পরিবেশ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে যায়। আনুমানিক প্রায় ৪০ হাজার কিন্ডারগার্ডেন স্কুল এদেশে আছে। এমন প্রতিষ্ঠান ও আছে যেগুলি থেকে ৩-১০ জন প্রাথমিক ও জেএস,সি পরীক্ষায় অংশপগ্রহন করে। অধিকাংশই ভাড়া বাড়িতে গড়ে উঠা। যথাযথ অবকাঠামো ও  মাঠ নেই ৯৫% প্রতিষ্ঠানে।শিক্ষকদের মান, প্রশিক্ষনের কথা বাদই দিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশে  আনুমানিক ৩৭ হাজারের বেশি মাধ্যমিক এম,পি,ও ভুক্ত প্রতিষ্ঠান আছে।সরকারি প্রায় ৩২১ টি মাধ্যমিক স্কুল আছে। প্রায় প্রতি গ্রামে একটি এবং প্রতি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। ক্যাচমেন্ট এরিয়া অনুযায়ি শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা করলে, শিক্ষা প্রশাসন যথাযথ তদারকি করলে মান সম্মত শিক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  শিক্ষা কারিকুলাম,পাঠ্যবই  অত্যন্ত আধুনিক মান সম্মত। কিন্ডারগার্ডেনের বইয়ের ঘানি টানার বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করে  যথার্থ শিক্ষা দিতে যথেষ্ট এই কারিকুলাম।যেসব শিক্ষানুরাগী সম্মানিত ব্যক্তিগন বানজ্যিকভাবে স্কুল গড়ে তুলছেন তারা যদি বিরাজমান স্কুলের শিক্ষার মান নিশ্চিতকরনে তাদের মেধা শ্রম ও অর্থ প্রয়োগ করেন তাহলে  দেশ জাতি অধিক বেশি লাভবান এবং উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি। তাদের স্কুল দিয়ে ব্যবসা করার দরকার হবে না।অনেক ব্যবসায়িক খাত তৈরী হবে দেশে।মাধ্যমিক লেবেল পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থী, তাদের বাবা মা সহ প্রায় ৬ কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। শিক্ষার বিশাল ব্যায়ের চাপ থেকে জনগন মুক্ত হবে যা মানুষের জীবন ধারনের ব্যয়কে অনেক কমিয়ে দিবে। সরকারি ভাবে আরো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার কারনে অধিক সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার সুযোগ হবে।শিক্ষকরা বর্তমান কিন্ডারগার্ডেন যে বেতনভাতাদি পায় তার চেয়ে অনেক বেশি সুবধা পাবে , মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। করোনার ভয়াবহতা আমাদেরকে বুঝিয়ে দিচ্ছে শিক্ষা নিয়ে বানিজ্য চলে না। শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এটাকে রাস্ট্রের পরিপূর্ন নিয়ন্ত্রনে নিতে হবে। সহজ কথায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করন করতে হবে।অন্যথায়  টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব হবে না। কারন জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষা  নড়বড়ে হলে জাতি সবল হতে পারে না।
মুহাম্মদ মাসুম খান
কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য
স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ)

ফেসবুকে আমরা

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart