1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

গা-ঢাকা দিলেন এমপি হাজী সেলিম

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ৮৮

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিম কাণ্ডে গা ঢাকা দিয়েছেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে ছেলে ও দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে মামলার পর তার পুরান ঢাকার দেবীদাস ঘাটের বাড়িতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনভর অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। ওই বাড়ি ও তার ছেলের কার্যালয়ে চালানো অভিযানে অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা, ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিম পুরান ঢাকার বড় কাটরার নিজ বাড়িতেই থাকতেন। ছেলে গ্রেপ্তার এবং বাসায় অভিযান চললেও দেখা যায়নি ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী সেলিমকে। অভিযান শেষে সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ তার (হাজী সেলিম) অবস্থানের বিষয়ে কিছু বলেননি।

তবে এর আগে দুপুরে আশিক বিল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, হাজী সেলিম বাড়িতে নেই। অভিযানের আগেই তিনি তার স্ত্রীসহ ডাক্তারখানায় গেছেন বলে জানা গেছে। তবে কোন চিকিৎসকের কাছে গেছেন, তা জানাতে পারেননি এ র‌্যাব কর্মকর্তা।

জানা গেছে, যখন র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করছিল তার আগ থেকেই ওই বাসায় নেই হাজী সেলিম। ছেলের কর্মকাণ্ডে লোক লজ্জার ভয়ে গা ঢাকা দিয়ে আছেন ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিম।

হাজী সেলিমের ছেলে নিজের ক্ষমতা দেখানোর জন্য গত নির্বাচনের আগে একাধিকবার চকবাজার এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছেন। ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর শহীদ হাজী আব্দুল আলিম খেলার মাঠ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটান ইরফান সেলিম। সেদিন মূলত ছিল নিজেকে জানান দেওয়ার শো ডাউন। ওই অনুষ্ঠানে তৎকালিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন প্রধান অতিথি ছিলেন। মাঠের নাম ফলকে হাজী সেলিমের নাম না থাকায় তার ছেলে ইরফান সেলিম দলবল নিয়ে হাজির হন সেখানে। এক পর্যায়ে কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিককে থাপ্পর মারেন হাজী সেলিম।

এভাবে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার মধ্য দিয়ে উত্থান হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের। পুরান ঢাকার বিশেষ করে চকবাজার এলাকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন ইরফান সেলিম। একাদশ সংসদ নির্বাচনে পিতার আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরমও তুলেছিলেন ইরফান। পরে আওয়ামী লীগ থেকে হাজী সেলিমকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে বিজয় লাভ করেন।

এমপি হতে না পারলেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন থেকেই যায় তার। তাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইরফান সেলিম। বাবা এমপি অন্যদিকে শ্বশুর ইকরামুল করিম চৌধুরীও একজন সংসদ সদস্য। আর নিজে কাউন্সিলর। তাই ধরাকে সরা জ্ঞান মনে করতেন ইরফান সেলিম।

আর এর সবই পেয়েছেন পিতা হাজী সেলিমের কাছ থেকে। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী থেকে সংসদ সদস্য বনে যাওয়া হাজী সেলিমও বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে এলাকার ভেতর প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।

হাজী সেলিম বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় সাবেক ঢাকা-৮ আসনের বিএনপিপ্রার্থী আবুল হাসনাতকে হারালেও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি হেরে যান বিএনপিপ্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর কাছে। এরপর সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে ওই আসনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বিএনপির নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে হারিয়ে চমক দেখান হাজী সেলিম। এরপর ২০১৮ সালে আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ঢাকা-৭ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীকে হারান তিনি। দশম সংসদে ১৬ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নিয়ে আলাদা একটি জোট করেন তিনি। যদিও সেই জোটের কোনো কার্যকারিতা ছিল না।

তবে বিভিন্ন সময় সংসদে নানা বিষয় নিয়ে বিতর্কে জড়াতেন এই সংসদ সদস্য। একবার সংসদে আইন প্রণয়ন কাজে তৎকালিন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে তর্কে জড়ান হাজী সেলিম। তবে দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে হাজী সেলিম কথা বলতে পারেন না। শুধু ইশারায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

হাজী সেলিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ধানমন্ডিতে সংসদ সদস্যের স্টিকারযুক্ত হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করেন ইরফান সেলিম। সোমবার ভোরে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান, গাড়িচালক, দেহরক্ষীসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা। সেই মামলায় কারাগারে কাউন্সিলর ইরফান সেলিম। আর ঘটনা থেকে নিজেকে আড়াল করতে পলাতক এমপি হাজী সেলিম।

সোমবার দুপুরে হাজী সেলিমের চকবাজার থানা এলাকার দেবীদাস ঘাটের বাড়ি ঘিরে ইরফান, জাহিদ ও গাড়িচালক মিজানকে হেফাজতে নেয় র‌্যাব। পরে মিজানকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে র‌্যাব। র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে একটি গোয়েন্দা দল, র‌্যাব-৩ ও ১০-এর সদস্যরা এতে অংশ নেন। ওই বাড়ির চতুর্থ ও পঞ্চম তলাটি ডুপ্লেক্স পদ্ধতিতে নির্মাণ করা। চতুর্থ তলার উত্তর কর্নারের রুমটিতে থাকেন ইরফান সেলিম। পুরো বাসায় ছড়ানো-ছিটানো দেখা যায় নানান অবৈধ জিনিসপত্র। বাড়িটি হাজী সেলিমের বাবা অর্থাৎ কাউন্সিলর ইরফানের দাদা চাঁন সরদারের। এ সময় ওই বাসা থেকে ৩৮টি ওয়াকিটকি, ৪টি ভিএইচএফ সেট (ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি), ১টি হ্যান্ডকাপ, ১০ ক্যান বিদেশি বিয়ার, ৩টি হাই ফ্রিকোয়েন্সি ওয়ারলেস সেট, ১টি একনলা বন্দুক, ১টি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

অভিযানে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে ছয় মাস এবং মাদক রাখার দায়ে আরো ছয় মাস করে কারাদন্ড দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

এদিকে চকবাজারে হাজী সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা আশিক টাওয়ারের ১৪তলায় টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর রাতেই মদিনা আশিক টাওয়ারে ইরফান সেলিমের নিজস্ব টর্চার সেলে অভিযান চালানো হয়। ইরফানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর ইরফানের বাড়ির কাছাকাছি মদিনা আশিক টাওয়ারের ১৪তলার একটি রুমে অভিযান চালায় র‌্যাব।

মামলায় যা উল্লেখ করা হয়েছে: ওয়াসিফ আহম্মেদ এজাহারে অভিযোগ করেন, রবিবার (২৫ অক্টোবর) নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে করে তিনি মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন। সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটি পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি গাড়ি। ওয়াসিফ আহম্মেদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন। তারা গাড়ি নিয়ে কলাবাগানের দিকে যান। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহম্মেদও তাদের পেছনে পেছনে যান। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলব’ এই কথা বলে তাকে কিলঘুসি দিতে থাকেন। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

যা ঘটেছিল: রোববার সন্ধ্যায় কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে ১টি কালো রঙের ল্যান্ড রোভার জিপ (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৫৭৩৬) থেকে দু-তিন ব্যক্তি নেমে এসে এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। আক্রান্ত বক্তিকে বাঁচাতে তার স্ত্রী এগিয়ে এলে তিনিও রেহাই পাননি হামলাকারীদের হাত থেকে। হামলায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তির একটি দাঁতও পড়ে যায়। সড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। তখন শোনা যায় হামলার শিকার ওই ব্যক্তির নাম মো. ওয়াসিফ আহম্মেদ খান। তিনি নৌবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট। বর্তমানে ডেপুটেশনে ‘এসএসএফ’ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স)-এ দায়িত্ব পালন করছেন। পথচারীদের ধারণ করা ওই দৃশ্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তাকে রক্তাক্ত মুখে বলতে শোনা যায়, তিনি পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়েছে। তার স্ত্রীর গায়েও হাত দিয়েছে। পরে ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে জিপ গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়। তখন জানা যায় গাড়িটি সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের। হামলার নির্দেশদাতা তারই ছেলে মোহাম্মদ ইরফান সেলিম।

আরও পড়ুন কাউন্সিলর এরফান সেলিম বরখাস্ত

ফেসবুকে আমরা

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart