1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৬ অপরাহ্ন

প্রার্থীর ‘যোগ্যতা’ বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক , ৩০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৪

কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই কাছের মানুষদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে। বেশ কিছু অনিয়মের ‘তথ্য-প্রমাণ’ সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির আওয়ামীপন্থী অন্তত ৬৩ জন শিক্ষক।

অভিযোগ আমলে নিয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ইউজিসি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ পেয়ে অন্তত ৪৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৪ জন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে (আইবিএ) ৪ জন, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগে ৩ জন, আইন বিভাগে ৩ জন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ৩ জন, নৃবিজ্ঞান বিভাগে ৩ জন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ৩ জন, ফলিত গণিত বিভাগে ৩ জন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানে ৪ জন, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল-ই) বিভাগে ৪ জন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১ জন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইআর) ৫ জন ও ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে ৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।

জানা গেছে, উপাচার্যের মেয়ে ও জামাতা, তার নিজ জেলার প্রার্থী, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার মেয়ে ও জামাতা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবু বকরের মেয়ে, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলীর ছেলে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান আকনের মেয়ে, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শিবলী ইসলামের স্ত্রী এবং বর্তমান প্রশাসনের সহকারী প্রক্টর এস এম মোখলেসুর রহমানের ভাইয়ের ছেলেসহ অনেকেই নিয়োগ পেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের অনেকের থেকে আবেদন করা প্রার্থীর যোগ্যতা বেশি ছিল, কিন্তু তারা একাডেমিক যোগ্যতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারেননি। বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হওয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছের না হওয়ায় আবেদন করা অনেক প্রার্থীর একাডেমিক যোগ্যতার কোনো গুরুত্ব দেননি উপাচার্য।

শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তনের পর ২০১৮ সালে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউিটে (আইইআর) সাতটি পদের বিপরীতে আটজন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আইইআর সংশ্লিষ্ট দুটি বিশেষায়িত বিষয়ে দুজন এবং সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষা বিষয়ে একজনের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এর বাইরে বাংলা, ইংরেজি, পরিসংখ্যান, সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ে একজন করে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯১তম সিন্ডিকেটে বিশেষায়িত বিষয়ে দুজন এবং সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষায় একজন শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে বিশেষায়িত বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া নাসরিন আহমেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আটজন প্রার্থীর মধ্যে পঞ্চম। তিনি আগের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনের অযোগ্য। বিশেষায়িত বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া মুহাম্মদ কামরুল হাসানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছয়জন আবেদনকারীর মধ্যে সর্বনিম্ন এবং তিনিও পূর্ব নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনের অযোগ্য ছিলেন।

চলতি বছরের ৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯৮তম সিন্ডিকেটের ৩৮ নম্বর সিদ্ধান্তের ‘ক’ অংশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবু বকরের মেয়ে শেখ সেমন্তিকে আইইআরের বিজ্ঞাপিত একটি প্রভাষক (সমাজবিজ্ঞান) পদের বিপরীতে স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। উপাচার্যের ‘খুব কাছের লোক’ হিসেবে অধ্যাপক এস এম আবু বকর ক্যাম্পাসে পরিচিত। ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএসএস শেষ করেন শেখ সেমন্তি। তিনি ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনে অযোগ্য। শেখ সেমন্তি মানবিক শাখা থেকে ২০০৩ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৩.৫৬ ও ২০০৫ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৪০ পান। এ ছাড়া স্নাতকে তিনি প্রথম শ্রেণি পেয়েছেন।

শেখ সেমন্তিসহ আইইআরে প্রভাষক (সমাজবিজ্ঞান) পদের বিপরীতে মোট আবেদন করেছিলেন ১৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে অনেক প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফল শেখ সেমন্তির চেয়ে অনেক ওপরে।

প্রার্থীদের মধ্যে অনেকের থেকে কম যোগ্যতা থাকার পরও শুধুমাত্র বাবার পরিচয়ে শেখ সেমন্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবু বকর জানান, শেখ সেমন্তি নিজের যোগ্যতায় শিক্ষক হয়েছেন।

এস এম আবু বকর বলেন, সে (শেখ সেমন্তি) অনার্স এবং মাস্টার্সে দুটাই সেকেন্ড (মাস্টার্সে দ্বিতীয় শ্রেণি আছে)। এটুকু শুধু বললাম।

সেমন্তির থেকে আবেদন করা প্রার্থীদের অনেকের যোগ্যতা ভালো ছিল, এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক বলেন, আপনি সেটা বোর্ডের সদস্যদের জিজ্ঞেস করেন।

তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে উপাচার্যের পরিচিতির কারণে তার মেয়ে নিয়োগ পাননি।

উপাচার্যের সঙ্গে আপনার ভালো সম্পর্ক নয়? উত্তরে এস এম আবু বকর বলেন, ভালো সম্পর্ক নেই, সে কথা বলব কেন আমি।

একই সিন্ডিকেটের ৩৮ নম্বর সিদ্ধান্তের ‘খ’ অংশে আইইআর’র বিজ্ঞাপিত একটি প্রভাষক (পরিসংখ্যান) পদের বিপরীতে এন এ এম ফয়সাল আহমেদকে স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেন উপাচার্য। ওই পদে ২০ জন প্রার্থী আবেদন করেন, যাদের মধ্যে বেশির ভাগ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এন এ এম ফয়সাল আহমেদের থেকে অনেক ভালো। আগের নীতিমালায় তার আবেদনের যোগ্যতা ছিল না। তিনি উপাচার্যের জেলা নাটোরের বাসিন্দা। শুধু ফয়সাল আহমেদকেই নয়, তার স্ত্রীকে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য আবদুস সোবহান।

এসব বিষয়ে জানতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহানকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ২০১৭ সালের ৭ মে। নিয়োগের পর নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে উঠে আসে তার নাম।

ফেসবুকে আমরা

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart