1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ০৭:৫১ অপরাহ্ন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

মুহাম্মদ মাসুম খান (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৯০

বিশ্বে বর্তমানে নভেল করোনা ভাইরাস একটি আতংকের নাম। ইতিমধ্যে ২০৩ টি দেশে এই ভাইরাসের সংক্রামন ছড়িয়েছে, অর্ধ লক্ষের বেশি মানুষ ইতিমধ্যে মারা গিয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে ১০ লক্ষের অধিক মানুষ। চীনের উহান রাজ্য থেকে গত ডিসেম্বরে এই ভাইরাসের সংক্রামক যাত্রা শুরু হলে ও ইতিমধ্যে ইটালি, স্পেন, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এই ভাইরাসের সংক্রামনে মৃত্যুপুরিতে রুপান্তরিত হয়েছে । ভারতীয় উপমহাদেশে এখনো আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা ইউরোপ এবং আমেরিকার তুলনায় খুব কম হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বার বার বাংলাদেশ সহ ভারতীয় উপমহাদেশে করোনা সংক্রামনের চরম ঝুকিতে আছেন বলেন উল্লেখ করছেন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা আশংকা করছে বাংলাদেশে জনসংখ্যার যে ঘনত্ব,আর্থ সামাজিক অবস্থা তাতে একবার সংক্রামন কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে গেলে ২০ লক্ষ মানুষ মারা যেতে পারে। করোনা ভাইরাসের সংক্রামক গানিতিক হারে নয় জ্যামিতিক হারে হয় যা অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে যায়। আমেরিকাতে এক মাস আগেও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০০ এর নিচে। আমেরিকার মতো উন্নত দেশে এক মাসের মধ্যে করোনা আক্রান্তে সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ হয়ে গেছে, মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে সাড়ে প্রায় ৫ হাজারে।শুধু আমেরিকা নয় অন্যান্য দেশের একই অবস্থা। বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হয় ৮ মার্চ। ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮ জন এবং মৃত্য হয়েছে ৯ জনের। যদিও এই সংখ্যা নিয়ে অনেক হিসেব নিকেশ আছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে প্রতিদিন যে হারে পরীক্ষা করার কথা সেটা আমাদের সীমাবদ্ধতার কারনে এখনো করতে পারছেনা। তবে সংক্রামক ঠেকানোর জন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মতে বাংলাদেশ সরকার সাধ্যমতো যাবতীয় প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা ইতিমধ্যে গ্রহন করেছে অত্যন্ত সাহসীকতা এবং বাস্তবতার আলোকে।

১৭ মার্চ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টেনে রাখার ব্যবস্থা, আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।বহুল কাংখিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্ম বার্ষীকির সমস্ত অনুষ্ঠান বাতিল করেন সংক্রামন ঠেকানোর প্রথম শর্ত জন সমবেত হওয়া বন্দ করতে। বাংলাদেশের ৪৯ বছরের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো স্বাধীনতা দিবসের সকল প্রোগ্রাম স্থগিত করেন। ২৬ মার্চ থেকে প্রথমে  পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ঔষধ আর নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান ছাড়া সমস্ত অফিস আদালত,মার্কেট,দোকান, সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান, সকল ধরনের গন পরিবহন, বিমান বন্দর সব কিছু বন্দ ঘোষনা করেন। বিদেশ ফেরতদের হোমকোয়ারেন্টেইনে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। ইতিমধ্যে রাস্তায় সেনা ও পুলিশ নামিয়েছেন যাতে মানুষ একান্ত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থেকে বের না হয় সেটা নিশ্চিত করতে।

মসজিদ,মন্দির, ধর্মীয় উপাসনালয় সহ সকল ধরনের জন সমবেত হওয়া নিষিদ্ধ করেছেন।নিন্ম বিত্তদের খাবারের জন্য যাতে বের হতে না হয় সেজন্য তাদের খাবার পৌছে দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। হাত ধুয়া, মাস্ক পড়া, পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন থাকা সহ সমস্ত সচেতনা মুলক ব্যপক প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এসমস্ত কিছুর একটাই উদ্দেশ্য করোনা সংক্রামন প্রতিহত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলা। করোনা সংক্রামন প্রতিরোধের যেহেতু কোন ঔষধ নেই সেজন্য সতর্কতা মুলক ব্যবস্থা গ্রহনই একমাত্র বাচার উপায়। আর এসব সতর্কতার মধ্যে একমাত্র উপায় হচ্ছে ঘরে থাকা, মানুষের সংস্পর্শে না আসা। একান্ত জরুরী প্রয়োজনে বাহিরে আসলে সামাজিক দুরত্ব অর্থাৎ একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের মাঝখানে নূন্যতম ১ মিটার বা ৩ ফুট দুরত্ব বজায় রাখা।

প্রশ্ন হচ্ছে এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত কিছু বন্ধ করে দিয়ে দেশকে লক ডাউন করে দেয়া হয়েছে অথচ অত্যন্ত জনাকীর্ন দেশের ৪৬২১ টি গার্মেন্টস খোলা রাখা হয়েছে যেখানে প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের পরিবারের সদস্যদের নিলে এক থেকে দেড় কোটি মানুষের সরাসরি সংশ্লিষ্টত। এই ৪০ লক্ষ শ্রমিক যখন তাদের কর্মস্থলে যান তখন কি তারা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে পারছেন? শ্রমিকেরা তাদের প্রতিষ্ঠানের বাসে ঠাসাঠাসি করে গায়ে গায়ে লেগে কর্ম স্থলে যান।যারা পায়ে হেটে যান তারাও দল বেধে জনাকীর্ন অবস্থায় যান। সেখানে সামাজিক দুরত্ব তো দুরের কথা হাঁচি কাশি শিষ্ঠাচার অনেক ক্ষেত্রে মেনে চলা হয় না। ঠিক একই অবস্থা হয় তাদের বাসায় ফিরার সময়। গার্মেন্টসের ভিতরের অবস্থা ও অত্যন্ত জনাকীর্ন, একই কক্ষে অনেককে এক সাথে কাজ করতে হয়।

প্রতিদিন ৪০ লক্ষ শ্রমিকের এই ধরনের পরিস্থিতি করোনা ভাইরাসের সংক্রামনের জন্য চরম ঝুকিপূর্ন। ৪০ লক্ষ শ্রমিক বাসায় যেয়ে কে কি করে কার সাথে মিশে, কোন প্রবাসি আত্নীয় পরিচিত, অপরিচিত কারো সংস্পর্শে আসে কিনা ,কোন পরিবেশে থাকে, কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না। এই অবস্থায় প্রায় অর্ধ কোটি এতো মানুষের মাঝে কেউ না কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত থাকতে পারা কি অস্বাভাবিক? আর যদি একজন আক্রান্ত হয় প্রতিদিন কত জনকে সংক্রামিত করছেন কল্পনা করতেই আতংকিত বোধ করার কথা। এই অবস্থায় অত্যন্ত ভয় এবং আতংকের মধ্যে শ্রমিকরা কাজে যাচ্ছে। অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠনই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় গার্মেন্টস বন্ধ রাখার পক্ষে। কিন্তু মালিক পক্ষ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। প্রশ্ন হচ্ছে গার্মেন্টস খাতকে এতো বিশাল ঝুকির মাঝে ও খোলা রাখতেই হবে কেন? বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমনে কোন দেশের এমন কোন খাত নাই যে নজিরবিহীন ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে না।

নিসন্দেহে বাংলাদেশের পোশাক খাত অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। তাই বলে সকল শিল্প কারখানা, অফিস,আদালত, সমস্ত কিছু বন্দ থাকলেও পোশাক শিল্প চালু রাখতেই হবে যেকোন বিনিময়ে সেটার যোক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। করোনা ভয়াবহতায় সারা বিশ্ব এখন লক ডাউনের মধ্যে আছে। সারা বিশ্বে এখন সমস্ত মার্কেট, বিপনি,অফিস, আদালত,শিল্প কারখানা বন্ধ। ইউরোপ, আমেরিকার প্রায় সব দেশের অনেক ক্রয়াদেশ ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। গ্যাপ, নাইকি,ইন্ডিটেক্সেল সহ বিশ্ববিখ্যাত ব্রান্ডগুলি তাদের বিক্রয় কেন্দ্র বন্দ করে দিয়েছে। নতুন কোন ওর্ডার আসছে না। প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্রয় ওর্ডার বাতিল হচ্ছে। দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ি গত রবিবার পর্যন্ত দেড় বিলিয়ন, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ শত ৭৭৫ কোটি টাকার ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে।

আগামি কয়েক মাসে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক ধ্বসের সাথে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ও এক বিরাট ক্ষতির সম্মুখিন হবে। অনেক গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যেতে পারে কাজের অভাবে। সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সাথে জড়িত গার্মেন্টসের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এখন যেহেতূ নতুন ওর্ডার নাই,অনেক ওর্ডার বাতিল হয়ে গিয়েছে সেক্ষেত্রে গার্মেন্টসে কাজের চাপ কম থাকার কথা। তাছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরিন চাহিদা এই মুহুর্তে খুব জরুরী নয়। সেক্ষেত্রে করোনা মহামারি প্রতিরোধের ১৬ কোটি মানুষের জীবন বাচানোর স্বার্থে গার্মেন্টস বন্দ রাখাটা যুক্তিযুক্ত বলে দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন। তবে জরুরী কাজের জন্য যেমন মাস্ক, পিপিই তৈরীর জন্য কিছু গার্মেন্টস খালা রাখা যেতে পারে। পিপিই,মাস্কের দেশ বিদেশের যতই অর্ডার থাকুক না কেন এতো গার্মেন্টস খোলার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। খোলা রাখলেও তারা যাতে আসার পথে সোশাল ডিসটেন্স মানতে পারে সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থায় এবং প্রত্যেকে সংক্রামক প্রতরক্ষা মূলক পোশাক পরিধান করাতে হবে।গার্মেন্টস চালু রাখা বা বন্ধ রাখার ব্যাপারে মালিক পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন ধরনের অস্পস্ট কথা বলছেন। শ্রম মন্ত্রনালয়ের সচিব এবং মন্ত্রিদের কথা ও অস্পস্ট। এক পক্ষ আরেক পক্ষের উপড় ছেড়ে দিচ্ছেন।

এফবিসি আইসির সভাপতি মোঃসিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি গার্মেন্টস বন্দ করে দিতাম যদি নিশ্চিত হতাম গার্মেন্টস বন্দ করে দিলে শ্রমিকরা ভাল পরিস্থিতিতে থাকবে। প্রশ্ন হচ্ছে এখন কি উনারা নিশ্চিত যে শ্রমিকরা ভাল পরিস্থিতিতে আছেন। অনেক মালিক বলছেন,তারা অত্যন্ত কঠর সচেতনতা এবং সতর্কতার মধ্যে কারখানা চালাচ্ছেন।বন্দ দিলে শ্রমিকরা আরো ঝুকির মধ্যে পরবে কারন বাড়ি ফিরে যাবে। সেক্ষেত্রে যাওয়ার পথে বা গ্রামে সংক্রামনের ঝুকি থাকবে। আবার কিছু মালিক ভিন্ন মত দিচ্ছেন,তারা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্দ হয়েছে বাচ্চারা কাছাকাছি থাকে বলে,গার্মেন্টসে একই অবস্থা, এক সঙ্গে অনেকে কাজ করে, চলাচল করে, সেক্ষেত্রে আমরা যতই চেস্টা করি জীবানু মুক্ত রাখা এবং সংক্রামক প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জটিল বিষয়। বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি আনোয়ারুল হক আলম চৌধুরী বলেন, এটা আমাদের একক কোন সিদ্ধান্ত নয়,আমরা বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরব, সরকারের নির্দেশ অনুযায়ি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বনিক বার্তার প্রতিবেদন অনুযায়ি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় বলেছে, যদিও সবে মাত্র করোনার সংক্রামন শুরু হয়েছে এরই মধ্যে শ্রমিকদের সংক্রামন ঝুকি নিরসনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।তবে কারখানা বন্দ মন্ত্রনালয়ের একক কোন সিদ্ধান্ত নয়।
শ্রম মন্ত্রনালয়ের সচিব কে, এম আলী আজম বলেন, এখন পর্যন্ত কারখানা বন্দের কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমার জানা নেই তবে এখনো বন্দ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলে আমার মনে হয়।
অনেক মালিক নেতা বলছেন, প্রনোদনা ছাড়া গার্মেন্টস চালু রাখা যাবে না। শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতন দেয়ার মতো অবস্থা আমাদের নেই।কেউ কেউ সিংগাপুরের মতো সরকারকে শ্রমিকদের বেতন দিয়ে দেয়ার কথা বলছেন। পাশাপাশি তাদের ব্যাংক ঋনের ছয় মাসের কিস্তি মওকুফ করে দেয়ার কথা বলেছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে অন্তত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত গার্মেন্টস বন্দ রাখা উচিত ছিল। তারপর পরিস্থিতি কি হয় তার উপড় নির্ভর করে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয়া যেত।বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার মতে আগামি ৬/৭ দিন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ন। এই কয়টা দিন ঘরে থাকতে পারলে,সোশাল ডিসটেন্স মানতে পারলে সংক্রামনের ভয়াবহতার গতি নিয়ন্ত্রন করা যেতে পারে। এমতাবস্থায় গার্মেন্টস বন্দ করা নিয়ে সিদ্ধান্ত হীনতা এদেশের ভবিষ্যতকে চরম হুমকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। করোনা প্রতিরোধে প্রধান মন্ত্রির সময়োচিত তাৎপর্যপূর্ন জাতি রক্ষাকারি ঐতিহাসিক নির্দেশনাসমুহকে সমালোচনার মধ্যে ফেলে দিতে পারে।

ইতিমধ্যে প্রধান মন্ত্রি পোশাক শিল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা প্রনোদনা ঘোষনা করেছেন শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য। ছয় মাসের ঋনের কিস্তি স্থগিত করার ঘোষনা দিয়েছেন।ভবিষ্যতে আরো সুযোগ সুবিধা দিতে পারবেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে। কিন্তু ৪০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিকদের দ্বারা যদি করোনা সংক্রমন শুরু হয়ে যায় লক্ষ লক্ষ প্রানহানী হবে এদেশে, সব পাবেন সেই প্রানগুলি কি ফিরিয়ে আনা যাবে । আর সেখানে যে শুধু শ্রমিকদের জীবন যাবে তানয় গার্মেন্টস কর্মকর্তা,মালিকসহ সর্ব শ্রেনির মানুষের প্রান হানী হবে।কারন করোনা ভাইরাস পরিপূর্নভাবে সাম্যবাদী ধনী, গরিব,ধর্ম, বর্ন, কোন ব্যবধান নেই তারকাছে। যেখানে আইইডিসি আর ২৪ ঘন্টায় ১৫৭ জনের করোনা আক্রান্ত সনাক্ত করতে সক্ষম। সেখানে গার্মেন্টস মালিকেরা কি পারবেন তাদের ৪০ লক্ষ শ্রমিকের করোনা টেস্ট নিশ্চিত করতে?

সরকার সেনা বাহিনী, পুলিশ নামিয়ে জনগনকে সোশাল ডিসটেন্স মানাতে পারছেন না সেখানে গার্মেন্টসের শ্রমিকদের কে মানাবে সোশাল ডিসটেন্স? দুঃখের বিষয় এদেশে লেখক হুমায়ন আহমেদের কবর কোথায় হবে সে সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রতিটি মন্ত্রনালয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সহ সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত একজন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাদার অফ হিউমিনিটি বিশ্ব রত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনাকেই নিতে হয়। কত দিক তিনি শামাল দিবেন? তিনি এই বিষয়টি গার্মেন্টস মালিক সংগঠনের উপড় ছেড়ে দিয়েছিলেন হয়ত কিন্তু মালিকেরা ঐক্যমতে পৌছতে পারলেন না।শ্রম মন্ত্রনালয়ের তো উচিত ছিল প্রধান মন্ত্রির কাছে কার্যকরি ভাবে বিষয়টি তুলে ধরা। এই অকল্পনীয় ভয়াবহ করোনা মহামারি থেকে বাচাতে দায়িত্ব সবাইকে যার যার সেক্টরে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব একা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছেড়ে দেয়াটা সমিচীন নয়।

যদিও আমাদের দেশে তাই হচ্ছে।মসজিদে জামাতে নামাজ স্থগিত রাখার ব্যাপারে দেশের সকল আলেমদের ডাকা হলো, তারা ও সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারলেন না,মসজিদ খোলা রাখার ধর্মান্ধ সিদ্ধান্ত দিলেন অথচ মক্কা-মদিনা সহ সারা মুসলিম জাহানের অধিকাংশ দেশের মসজিদে আপাতত মুসল্লী সমবেত হওয়া নিষিদ্ধ করেছে। পাকিস্তানে ১৮ জন ইমাম সাহেবকে গ্রেফতার করা হয়েছে মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ানোর দায়ে। দিল্লী জামে মসজিদে সমবেত মুসল্লীদের থেকে প্রায় ৬৪০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। গার্মেন্টস হউক,মসজিদ হউক,মন্দির হউক যেখানে এক সাথে অনেক মানুষ সমবেত হবে সেখান থেকেই করোনা সংক্রামনের সুযোগ থাকে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট্র বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজারো সীমাবদ্ধতার মাঝে অবিসংবাদিতভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাঙ্গালীর মহান স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামে। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তারই সুযোগ্য কন্যা নজিরবিহীন ভয়াবহ এই করোনা মহামারি থেকে জাতিকে মুক্ত রাখার এক কঠিন সংগ্রামের নেতৃত্বে আছেন।ইনশাল্লাহ করোনার বিরুদ্ধে জাতির এই ক্রান্তি লগ্নে বর্তমান রাস্ট্রনায়ক প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় আমরা জয়ী হবো। কিন্তু এই মুহুর্তে মহামারির ভয়াবহতার তীব্রতা ঠেকাতে শ্রমিকদেরকে যে যেখানে আছে সেখানে থাকার শর্তে গার্মেন্টস বন্দ রাখার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অতীব জরুরী।

 

মুহাম্মদ মাসুম খান

masumkhanngsc@gmail.com

ফেসবুকে আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart