1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪১ অপরাহ্ন

সাইনবোর্ডে প্রো-এ্যাকটিভ হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনা থামছে না

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ২৭৩

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় প্রো-এ্যাকটিভ হাসপাতালে রোগী নিয়ে একের পর অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই চলছে। গত এক বছরে কয়েকটি ঘটনায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ভুক্তভোগিসহ এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে। কিন্তু বার বার প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় পার পেরে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। গত বৃহস্পতিবারও (১২ ডিসেম্বর) অপচিকিৎসার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে রোগীর স্বজনরা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর ফারুকের স্বজন ও ভুক্তভোগিরা বিকাল সাড়ে ৪টায় এ বিক্ষোভ করেন। এসময় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় ব্যবস্থপনা পরিচালক প্রকৌশলী মহিউল ইসলাম ও ডাক্তাররা।

কাউন্সিলর ফারুক সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, সামন্য পেটের ব্যাথার জন্য গত ১০ ডিসেম্বর তার পিতা ইউনুস মিয়াকে হাসপাতালাতে ভর্তি করা হয়। দুইদিনে পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। তার পরও কোন পরিবর্তন হয়নি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় কর্তৃপক্ষ রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছেন।

তিনি আরও জানান, এক প্রসূতির সন্তান প্রসবের জন্য কৌশলে ৭০হাজার টাকা আদায় করেছে। ভুল চিকিৎসায় ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বিগত তিন মাসে হাসপাতলটিকে ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে ৫ জন রোগী। হাসপাতালটিকে কসাই খানা উল্লেখ করে তিনি অপচিকিৎসা বন্ধের দাবি জানান।

মমতাজ বেগম নামে রোগীর একজন স্বজন জানায়, মেয়ে হেলেনার শিশু সন্তানকে ঠান্ডা জনিত রোগের কারণে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার ভর্তি করে। দৈনিক ৭ হাজার টাকা নিচ্ছে সিট ভাড়া। তিন দিনে শুধু সিট ভাড়াই দিয়েছে ২১ হাজার টাকা। অথচ শিশু সুস্থ্য হওয়ার কোন লক্ষণই নেই।

সোনারগায়ের পলাশ জানায়, তার ভাতিজাকে ভর্তি করা হয়েছে ৪ দিন হয়। এরই মাঝে ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে শুধু ওষুধ আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ। কতদিন হাসপাতালে থাকতে হবে তার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন না ডাক্তাররা। ফলে চিকিৎসা খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোগীদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়া নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করায় দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। এ ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটেছে কাউন্সিলর ফারুকের সাহসী ভূমিকার কারণে।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. ইমতিয়াজের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা নিয়ে বহু মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগেও উক্ত হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় অনেক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থপনাা পরিচালকের সাথে কথা বলা সম্ভব না হলে এডমিন ডা. রাশেদুল হুদা অপচিকিৎসা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

প্রো অ্যাক্টিভে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু

এরআগে ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর দুপুরে  ভুল চিকিৎসায় তাহমিনা খান (৩৪) নামে ৭ মাসের এক অন্তঃসত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।  অভিযোগ ওঠেছে।  সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোড প্রো এ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ স্বজনদের রোষানল থেকে বাঁচতে হাসপাতাল ছেড়ে ডাক্তার ও কর্মকর্তারা পালিয়ে  যায়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

ভূল চিকিৎসায় নিহত তাহমিনা খানের দেবর ইমাম কাজী জানিয়েছিলেন, তার ভাবী  ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে অসুস্থ হলে প্রো এ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। এ সময় রোগীর সাথে তার মা ও বড় ভাই ইব্রাহিম কাজী ও তাদের ম্যানেজার আবু তাহের মিয়া ছিলেন। পরে ডিউটি ডা. নাজমুল ও ডা. খান রিয়াজ মাহমুদ রোগীকে দেখতে চান। এসময় রোগী মহিলা ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাতে চান। পরে হাসপাতালের ইনডোর বিভাগ থেকে মহিলা ডা. নিশাতকে নিয়ে আসলে তিনি তাহমিনা খানকে দেখে তার দেহে দুইটি ইনজেকশন পুশ করেন।

ইমাম আরও বলেন, ইনজেকশন পুশ করার মাত্র ১০ মিনিট পরই রোগীর অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে জরুরী বিভাগ থেকে রোগীকে আইসিও বিভাগে পাঠানো হয়। আইসিও বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের জানায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তার আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে এসে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ ঘটনার পরপরই হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মকর্তা তালা মেরে হাসপাতাল ফেলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওই সময়ের অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সাত্তার টিটুর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

এ বিষয়ে কথা হলে প্রো এ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর কথা অস্বীকার করে বলেছিলেন, পুলিশ এসে চিকিৎসা সংক্রান্ত সবকিছু নিয়ে গেছে। আমি এখন হাসপাাতালে এসেছি। হাসপাতালের ব্যাপারে খারাপ কিছু লেইখেন না। আপনারা হাসপাতালে আসেন, আপনাদের সম্মানী দেয়া হবে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তৎকালীন অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সাত্তার টিটু জানান, রোগীর স্বজনরা দাবি করছেন ভূল চিকিৎসায় রোগী মারা গেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডস্থ প্রো এ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই অন্ত:সত্বা মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় কোন মামলা হয়নি বলে জানা গেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার মধ্যস্ততায় বিষয়টি মামলার দিকে আর গড়ায়নি। ওই রাতেই বিষয়টি মিমাংসা করে ফেলা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, ইতিপূর্বে এ হাসপাতালে টাকার জন্য এক মৃত রোগীকে আটকে রাখে। তাছাড়া এক প্রসূতির অপারেশন করার সময় নবজাতকের গাল কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে এ হাসপাতালের ডাক্তারের বিরুদ্ধে।

ফেসবুকে আমরা

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart